কাজের মাধ্যমেই অর্জিত হয় মর্যাদা। আমাদের আত্মমর্যাদার প্রকাশ ঘটে কাজের মাধ্যমেই।
নিচের ছকের কাজগুলো আত্মমর্যাদার পরিচয় বহন করে কি না, তোমার উত্তর হ্যাঁ/না আকারে লিখ।
| কাজ | হ্যাঁ/না |
| সোহেল নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করে | |
| বাবা-মা কখনও বকা দিলে ফাতেমা বকার কারণ খুঁজে নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করে | |
| মিলি স্কুলে যাওয়ার সময় কাজের মেয়ে তার ব্যাগ বহন করে | |
| রমা খুব উচ্চঃস্বরে কথা বলে না, কারণ সে মনে করে উচ্চঃস্বরে কথা বললে অন্যদের অসুবিধা হয় | |
| শিরিন নিয়মিত বাড়ির কাজ করে আনে, কারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এটি তার দায়িত্ব | |
| সারাদিন রিকশা চালিয়ে সন্ধ্যাবেলায় বাবা বাসায় ফিরলে মাহমুদ বাবাকে খাবার পানি এগিয়ে দেয়, রিকশা মুছে দেয় | |
| মা শুভর ময়লা কাপড় ধুয়ে দেন। |
এখন চলো নিজের ভাবনাটাকে মূল্যায়ন করি। সোহেল নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করে। কারণ হিসেবে সে বলে- 'বুদ্ধিমানেরা নিজের ওপর নির্ভর করে, আর বোকারা নির্ভর করে অন্যের ওপর'। কাজেই নিজের কাজ নিজে করাটা আত্মমর্যাদার পরিচায়ক। এখন থেকে আমরা সবাই সোহেলের মতো নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করব।
মানুষ হিসেবে আমাদের লজ্জাবোধ থাকা উচিত। অন্যায় করলে আমরা লজ্জিত হই। সেজন্য ফাতেমা যদি তার কোনো আচরণের কারণে বাবা-মায়ের কাছে বকা খায়, তাহলে সে লজ্জিত হয়। সে বাবা-মায়ের চাওয়া - পাওয়াকে শ্রদ্ধা করে এবং তাদের মতামত মেনে চলে। ফাতেমার এই আচরণ আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় বহন করে।
আমরা যদি খুব উচ্চস্বরে কথা বলি তাতে আমাদের চারপাশের মানুষের অসুবিধা হতে পারে। একজন আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মানুষ অন্যের অসুবিধা হয় এমন কিছু করেন না। কাজেই, রমার আস্তে কথা বলা তার আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে সচেতনতার পরিচয় বহন করে।
শিরিন তার আত্মমর্যাদা সম্পর্কে সচেতন। সেই সাথে সে নিজের দায়িত্ব পালনের প্রতি এবং বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার মতে, 'অন্যরা সবাই যদি পারে তাহলে আমিও পারব'।
সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, আত্মমর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতার পরিচয় বহন করে। আমরা যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকি আমাদের পোশাক যদি পরিচ্ছন্ন না হয় তা হলে আমাদের নোংরা দেখাবে। আমাদের গায়েও ঘাম ও ময়লায় দুর্গন্ধ হবে। অন্যের গায়ের দুর্গন্ধ আমাদের নাকে এলে আমাদের কি ভালো লাগে? আমাদের আশেপাশে যারা রয়েছে তাদেরও এতে খুব অসুবিধা হয়।
যাঁরা কায়িক শ্রম করেন, আমাদের উচিত তাদের সম্মান করা। রিকশা চালানো, নৌকা চালানো, ক্ষেতে কাজ করা ইত্যাদি অনেক কঠিন কাজ। তারা এ কঠিন কাজগুলো করেন বলেই আমাদের জীবন অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমাদের উচিত তাদের সম্মান করা। তাঁরা যখন কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরেন, তখন তাঁদের সেবা করা। তাঁদের বিশ্রামের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।
কাজেই আমরা সবসময় নিজের কাজ নিজে করব। তবে না শিখে বিপজ্জনক কাজ করব না। আমরা অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাব এবং সম্ভব হলে অন্যকে তার কাজে যথাসাধ্য সাহায্য করব। সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকব। কোনো কাজে ভুল হয়ে গেলে নিজেকে ছোটো মনে না করে সঠিকভাবে করার জন্য কারো কাছ থেকে শিখে নেব। এতে লজ্জাবোধ করার কিছু নেই। সব মানুষ সঠিকভাবে সব কাজ করতে পারে না। সঠিকভাবে কাজ করার জন্য কাজ শিখে নিতে হয় এবং বারবার চেষ্টা করতে হয়। তাই আমরা নিজের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মবিশ্বাস হারাব না।
আত্মমর্যাদার গল্প
জগদীশচন্দ্র বসু লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি নিয়ে ভারতবর্ষে ফিরে এলে তাঁকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অস্থায়ী অধ্যাপকের পদে নিযুক্ত করা হলো। সেই সময় সাহেবরা ভাবতেন ভারতীয়রা বিজ্ঞান শিক্ষাদানের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই ঐ পদে ইংরেজরা যে বেতন পেতেন জগদীশকে দেওয়া হতো তার দুই-তৃতীয়াংশ। আবার অস্থায়ী বলে ঐ বেতনের অর্ধেকটা জগদীশচন্দ্র বসুর হাতে আসত।
ইংরেজ ও ভারতীয়দের মধ্যকার এই বৈষম্যে জগদীশচন্দ্রের আত্মসম্মানে ঘা লাগল। তিনি এর প্রতিবাদ জানালেন। তরুণ এ অধ্যাপকের কথায় কেউ কর্ণপাত করল না। শেষ পর্যন্ত তিনি স্থির করলেন যে তিনি বেতনই নেবেন না। তিনি একাধারে তিন বছর কোনো বেতন না নিয়ে অধ্যাপনা করে গেলেন। কর্তৃপক্ষ অবশেষে তাঁর ন্যায্য অধিকারের কাছে নতি স্বীকার করল। ইংরেজ অধ্যাপকের সমতুল্য বেতন নির্ধারণ করে তার পাওনা সকল টাকা পরিশোধ করল। জগদীশ চন্দ্র বসু একজন আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তি।
দলগত কাজ তোমরা হয়ত তোমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ খুঁজে পাবে যারা জগদীশচন্দ্র বসুর মতো অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবান। এসো এমন মানুষের কাহিনি নিয়ে আমরা পোস্টার বানাই। প্রত্যেক দল একটি করে আত্মমর্যাদার গল্প পোস্টারে লিখ। |

Read more